
ভাই, বছরের পর বছর হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করা শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরিবহন শ্রমিকদের ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্য ছাড়া’ আর কী করেন? রাজধানীর এক বাসচালকের এমনই একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে এই মন্তব্য করেন তিনি। তার এমন মন্ত্যব্যে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি রাষ্ট্রের নীতির অংশ, ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়।
রোববার (২১ জুন) ভাইরাল ভিডিওটি থেকে ওই বাসচালকের নাম কিংবা পরিচয় জানা যায়নি।
বাসচালক বলেন, সর্বনিম্ন ২০ বছর পিঠে কইরা বহন করি বা গাড়িতে কইরা বহন করি। এই স্টুডেন্টরা প্রতিষ্ঠিত হইয়া আমাদের সাধারণ শ্রমিকদের জন্য কী করছে?
পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ক নানান তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও একজন শ্রমিকের মুখে এ ধরনের প্রশ্ন অনেকের কাছেই নতুন মনে হয়েছে। ভিডিওটির নিচে হাজারো মন্তব্যে নেটিজেনরা লিখেছেন, ছাত্রজীবনে দীর্ঘ সময় তারা হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন, কিন্তু এর পেছনে শ্রমিকদের ত্যাগ বা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি কখনো এভাবে ভাবেননি।
চালকের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ও তার প্রতিদান নিয়ে প্রশ্ন।
তার ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই দশক হাফ ভাড়ার সুবিধা ভোগ করে। এই সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের শিক্ষাজীবন সহজ করতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু সেই শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনা শেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন শ্রমিকদের জন্য তাদের কোনো অবদান চোখে পড়ে না।
তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থী একসময় হাফ ভাড়ায় বাসে চলাচল করেছে, সে পরে ডাক্তার, প্রকৌশলী, পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা বিচারক হয়। কিন্তু কোনো দিন কি তারা পরিবহন শ্রমিকদের জন্য তাদের সেবার মূল্য কমিয়েছে? চালকের ভাষায়, অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকেও অন্যদের মতো পূর্ণ ফি দিতে হয়, যদিও সেই চিকিৎসক একসময় তার কাছ থেকে হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন।
Copied from: https://rtvonline.com/
প্রতিবেদকের নাম 









