Dhaka ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন: ফিরছে নীল ও জলপাই রঙের শার্ট, প্যান্ট হবে খাকি জুন ক্লোজিং নাকি কোটি টাকার বরাদ্দ লুট? জকিগঞ্জে বাড়ছে প্রশ্ন। রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে ৬ যুবক আটক টাঙ্গাইলে কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ নিহত ৪ ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালী থানার ওসি প্রত্যাহার USA 🇺🇸 কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ 🇮🇳 ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সিলেট মাজারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসক। অবশেষে আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত রাফি গ্রেফতার। হবিগঞ্জে বাস চাপায় মটোরসাইকেল চালক নিহত জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের একাপূর্বা গ্রামের দিনমজুর আনোয়ার হোসেন কে যে ভাবে কু/পা/লো রাফি নামের এক যুবক।

আশুরা কী, এর রোজা কয়টি?

আশুরা আরবি শব্দ। আশারা থেকে আশুরা শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ হচ্ছে দশ। আরবি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলা হয়।আশুরা দিবসে বহু স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। মহান আল্লাহ যেদিন আকাশ, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, জান্নাত-জাহান্নাম, লাওহে মাহফুজ ও যাবতীয় সৃষ্টি-জীবের আত্মা সৃষ্টি করেছিলেন সে দিনটি ছিল ১০ মহররম তথা পবিত্র আশুরার দিন।

আশুরার রোজা রাখার সঠিক নিয়ম হলো– 
  

দুটি রোজা রাখতে হবে। মহররমের ১০ তারিখ একটি, আর এর আগে মহররমের ৯ তারিখ অথবা পরের দিন মহররমের ১১ তারিখ আরও একটি।

 


ইমাম বুখারি (রহ.) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় পৌঁছে মদিনার ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা পালন করতে দেখেন। 
 
নবীজি তাদের জিজ্ঞেস করেন, এ দিনে কী ঘটেছে যে তোমরা এতে রোজা পালন করো? তারা বলে, এই দিনটি অনেক বড় দিন, এ দিনে মহান আল্লাহ মুসা (আ.) ও তার সঙ্গীদের ফিরাউন থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং ফিরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুসা (আ.) রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি। ইহুদিদের জবাব শুনে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে বেশি যত্নশীল হওয়ার অধিকারী। অতঃপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখেন এবং মুসলমানদের তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন। (বুখারি: ৩৩৯৭; মুসলিম: ১১৩৯)
 
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি নির্দেশ করেছেন, তাই তার অনুসরণ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
 
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, হে আল্লাহর রসুল, বিধর্মীরা তো এই দিনটিকে বড় দিন মনে করে। এই দিনে তারাও রোজা পালন করে। আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি তাহলে তো এদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের জবাবে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে, আগামী বছর ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব, ইনশাআল্লাহ। (মুসলিম: ১১৩৪)
 

আরেক বর্ণনায় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 
  

তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরও একটি রোজা রেখে নিও। (মুসনাদে আহমদ: ২১৫৪)

আরও পড়ুনঃ  ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করল আর্জেন্টিনা।
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন: ফিরছে নীল ও জলপাই রঙের শার্ট, প্যান্ট হবে খাকি

আশুরা কী, এর রোজা কয়টি?

আপডেটের সময়: ০১:২৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আশুরা আরবি শব্দ। আশারা থেকে আশুরা শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ হচ্ছে দশ। আরবি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলা হয়।আশুরা দিবসে বহু স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। মহান আল্লাহ যেদিন আকাশ, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, জান্নাত-জাহান্নাম, লাওহে মাহফুজ ও যাবতীয় সৃষ্টি-জীবের আত্মা সৃষ্টি করেছিলেন সে দিনটি ছিল ১০ মহররম তথা পবিত্র আশুরার দিন।

আশুরার রোজা রাখার সঠিক নিয়ম হলো– 
  

দুটি রোজা রাখতে হবে। মহররমের ১০ তারিখ একটি, আর এর আগে মহররমের ৯ তারিখ অথবা পরের দিন মহররমের ১১ তারিখ আরও একটি।

 


ইমাম বুখারি (রহ.) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় পৌঁছে মদিনার ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা পালন করতে দেখেন। 
 
নবীজি তাদের জিজ্ঞেস করেন, এ দিনে কী ঘটেছে যে তোমরা এতে রোজা পালন করো? তারা বলে, এই দিনটি অনেক বড় দিন, এ দিনে মহান আল্লাহ মুসা (আ.) ও তার সঙ্গীদের ফিরাউন থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং ফিরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুসা (আ.) রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি। ইহুদিদের জবাব শুনে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে বেশি যত্নশীল হওয়ার অধিকারী। অতঃপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখেন এবং মুসলমানদের তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন। (বুখারি: ৩৩৯৭; মুসলিম: ১১৩৯)
 
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি নির্দেশ করেছেন, তাই তার অনুসরণ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
 
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, হে আল্লাহর রসুল, বিধর্মীরা তো এই দিনটিকে বড় দিন মনে করে। এই দিনে তারাও রোজা পালন করে। আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি তাহলে তো এদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের জবাবে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে, আগামী বছর ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব, ইনশাআল্লাহ। (মুসলিম: ১১৩৪)
 

আরেক বর্ণনায় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 
  

তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরও একটি রোজা রেখে নিও। (মুসনাদে আহমদ: ২১৫৪)

আরও পড়ুনঃ  সিলেট ট্রাফিক পুলিশের টিআই শাহাব উদ্দিনএর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ