Dhaka ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে কানাইঘাটের চতুল বাজারে সংঘর্ষ, উত্তেজনা! নতুন স্বপ্নের পথে নবীনদের পদচারণা, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জানাই উষ্ণ স্বাগতম সহায়তাকারীদের নাম নেই, নাম কামাতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সংবাদমাধ্যমের ব্র্যান্ডিং! জকিগঞ্জে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ২১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন সংবর্ধনার নামে হাফিজ ওসামাকে অপমান, ক্ষুব্ধ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ে কালিগঞ্জে স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইভটিজিংয়ের শিকার, কয়েক সপ্তাহ পর শিক্ষার্থীর মৃত্যু ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই সহজ ঋণের সুযোগ, জেনে নিন নিয়ম ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম বাড়ল, নতুন দর কার্যকর! সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার জকিগঞ্জে আবারও বেন্ডিলেটর ভেঙে ডাকাতি, ৮ ভরি স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুট

অনিয়ম, দূর্নীতি আর হয়রানিতে অতিষ্ঠ জকিগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০২:২২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
  • ২৭১ সময় দেখুন

জকিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের অনিয়ম, দূর্নীতি আর হয়রানিতে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা। প্রায় ৮ মাস যাবৎ জামানত নেওয়ার পরও নতুন বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু টাকা দিলে দালালরা পুরাতন সার্ভিস ড্রপ লাইন সংগ্রহ করে সংযোগ দিচ্ছেন। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন মনগড়া মত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকসেবা দুরের কথা নানাভাবে গ্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সেবা দিতে না পারলেও রীতিমতো রাজনীতি ও অধিকার আদায়ের নামে বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই অফিসের কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি সারাদেশে বিদ্যুত সার্টডাউনের মাধ্যমে জনগনকে জিম্মি করে দাবী আদায়ের আন্দোলনে সিলেট জেলার নেতৃত্ব দেন জকিগঞ্জ জোনাল অফিসের ইঞ্জিনিয়ার জামাল আহমদ। পরবর্তিতে ছাত্র-জনতার রোষানল থেকে বাচার জন্য তিনি কর্মস্থলে পলাতক থাকার কারনে জকিগঞ্জে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া ঐ আন্দোলনে মহিলা কর্মীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিলিং শাখার সহকারি তাহমিনা আক্তার। তিনিও বহুদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওযার পর যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে তাহমিনা আক্তার তার বিলিং টেবিলের সামনে নিদন বিশ্বাস নামের স্থানীয় এক দালাল নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন, যার মাধ্যমে তিনি টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের মিটার স্থানান্তর, ওয়ান পয়েন্ট ফরমে তথ্য দানে টাকার পরিমান কমিয়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ  সহায়তাকারীদের নাম নেই, নাম কামাতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সংবাদমাধ্যমের ব্র্যান্ডিং!

জকিগঞ্জ জোনাল অফিসে এখন টাকা ছাড়া ফাইল নড়ছে না। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আবাসিক, বাণিজ্যিক সহ নতুন সংযোগ ও মিটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। সুলতানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এক গ্রাহক বলেন, মিটার স্থানান্তরের আবেদন নিয়ে অফিসে গেলে দালাল এসে জানায় ১৫০০ টাকা দিলে মিটার স্থানান্তর করা যাবে। এই চুক্তিতে রাজী না হওয়ায় ঐ গ্রাহক মিটার স্থানান্তর আবেদন ফরম পর্যন্ত পাননি।

আরও পড়ুনঃ  জকিগঞ্জে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ২১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন

পল্লী বিদ্যুতের ওয়ারিং কাজ পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা পিউসী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন কাজের বুয়াকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তার অবর্তমানে জকিগঞ্জের গ্রাহকদের এই সেবা থেকে ব্যাহত হচ্ছে। জকিগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, প্রায় ৪ মাস পূর্বে মিটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু ওয়ারিং পরিদর্শক না থাকার কারনে আমার আবেদন অনুমোদন হয়নি। যার কারনে আজোও আমার মিটার স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

কাজলসার ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের গ্রাহক মামুন বলেন, ৮ মাস পূর্বে সকল নিয়ম মেনে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার পরও আমার মিটার পাচ্ছি না। অতচ, পাশ্ববর্তী বাড়িতে টাকার বিনিময়ে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করলে বলা হয়, সিরিয়াল আসলে মিটার সংযোগ দেয়া হবে। এই সিরিয়াল কবে আসবে আল্লাহ মালুম। একই অভিযোগ বিরশ্রী ইউনিয়নের আব্দুর রহমান, আটগ্রামের হাসান আহমদের।

আরও পড়ুনঃ  নতুন স্বপ্নের পথে নবীনদের পদচারণা, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জানাই উষ্ণ স্বাগতম

পল্লীবিদ্যুত অফিস সুত্রে জানা যায়, ওয়ারিং পরিদর্শক রজব আলী ১০ মাস থেকে যোগদান করে অফিসিয়াল খাতায় স্বাক্ষর করলেও কার্যত কোনো কাজ করছেন না। ফলে ভোগান্তির শেষ নেই।

এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, পিউসী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন অসুস্থতা জনিত কারনে ৫ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন, কিন্তু আর যোগদান করেন নি। তার কাজ হচ্ছে ওয়ারিং কাজের সুপারভিশন করা। তিনি না থাকলেও অন্য কর্মকর্তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার জামাল আহমদও ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে আছেন। জকিগঞ্জে কোনো গ্রাহক হয়রানির শিকার হচ্ছে না।

জনপ্রিয় পোস্ট

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে কানাইঘাটের চতুল বাজারে সংঘর্ষ, উত্তেজনা!

অনিয়ম, দূর্নীতি আর হয়রানিতে অতিষ্ঠ জকিগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা

আপডেটের সময়: ০২:২২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

জকিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের অনিয়ম, দূর্নীতি আর হয়রানিতে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা। প্রায় ৮ মাস যাবৎ জামানত নেওয়ার পরও নতুন বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু টাকা দিলে দালালরা পুরাতন সার্ভিস ড্রপ লাইন সংগ্রহ করে সংযোগ দিচ্ছেন। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন মনগড়া মত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকসেবা দুরের কথা নানাভাবে গ্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সেবা দিতে না পারলেও রীতিমতো রাজনীতি ও অধিকার আদায়ের নামে বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই অফিসের কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি সারাদেশে বিদ্যুত সার্টডাউনের মাধ্যমে জনগনকে জিম্মি করে দাবী আদায়ের আন্দোলনে সিলেট জেলার নেতৃত্ব দেন জকিগঞ্জ জোনাল অফিসের ইঞ্জিনিয়ার জামাল আহমদ। পরবর্তিতে ছাত্র-জনতার রোষানল থেকে বাচার জন্য তিনি কর্মস্থলে পলাতক থাকার কারনে জকিগঞ্জে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া ঐ আন্দোলনে মহিলা কর্মীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিলিং শাখার সহকারি তাহমিনা আক্তার। তিনিও বহুদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওযার পর যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে তাহমিনা আক্তার তার বিলিং টেবিলের সামনে নিদন বিশ্বাস নামের স্থানীয় এক দালাল নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন, যার মাধ্যমে তিনি টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের মিটার স্থানান্তর, ওয়ান পয়েন্ট ফরমে তথ্য দানে টাকার পরিমান কমিয়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ  জকিগঞ্জে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ২১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন

জকিগঞ্জ জোনাল অফিসে এখন টাকা ছাড়া ফাইল নড়ছে না। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আবাসিক, বাণিজ্যিক সহ নতুন সংযোগ ও মিটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। সুলতানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এক গ্রাহক বলেন, মিটার স্থানান্তরের আবেদন নিয়ে অফিসে গেলে দালাল এসে জানায় ১৫০০ টাকা দিলে মিটার স্থানান্তর করা যাবে। এই চুক্তিতে রাজী না হওয়ায় ঐ গ্রাহক মিটার স্থানান্তর আবেদন ফরম পর্যন্ত পাননি।

আরও পড়ুনঃ  ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম বাড়ল, নতুন দর কার্যকর!

পল্লী বিদ্যুতের ওয়ারিং কাজ পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা পিউসী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন কাজের বুয়াকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তার অবর্তমানে জকিগঞ্জের গ্রাহকদের এই সেবা থেকে ব্যাহত হচ্ছে। জকিগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, প্রায় ৪ মাস পূর্বে মিটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু ওয়ারিং পরিদর্শক না থাকার কারনে আমার আবেদন অনুমোদন হয়নি। যার কারনে আজোও আমার মিটার স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

কাজলসার ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের গ্রাহক মামুন বলেন, ৮ মাস পূর্বে সকল নিয়ম মেনে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার পরও আমার মিটার পাচ্ছি না। অতচ, পাশ্ববর্তী বাড়িতে টাকার বিনিময়ে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করলে বলা হয়, সিরিয়াল আসলে মিটার সংযোগ দেয়া হবে। এই সিরিয়াল কবে আসবে আল্লাহ মালুম। একই অভিযোগ বিরশ্রী ইউনিয়নের আব্দুর রহমান, আটগ্রামের হাসান আহমদের।

আরও পড়ুনঃ  ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই সহজ ঋণের সুযোগ, জেনে নিন নিয়ম

পল্লীবিদ্যুত অফিস সুত্রে জানা যায়, ওয়ারিং পরিদর্শক রজব আলী ১০ মাস থেকে যোগদান করে অফিসিয়াল খাতায় স্বাক্ষর করলেও কার্যত কোনো কাজ করছেন না। ফলে ভোগান্তির শেষ নেই।

এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, পিউসী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন অসুস্থতা জনিত কারনে ৫ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন, কিন্তু আর যোগদান করেন নি। তার কাজ হচ্ছে ওয়ারিং কাজের সুপারভিশন করা। তিনি না থাকলেও অন্য কর্মকর্তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার জামাল আহমদও ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে আছেন। জকিগঞ্জে কোনো গ্রাহক হয়রানির শিকার হচ্ছে না।