Dhaka ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে কানাইঘাটের চতুল বাজারে সংঘর্ষ, উত্তেজনা! নতুন স্বপ্নের পথে নবীনদের পদচারণা, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জানাই উষ্ণ স্বাগতম সহায়তাকারীদের নাম নেই, নাম কামাতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সংবাদমাধ্যমের ব্র্যান্ডিং! জকিগঞ্জে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ২১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন সংবর্ধনার নামে হাফিজ ওসামাকে অপমান, ক্ষুব্ধ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ে কালিগঞ্জে স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইভটিজিংয়ের শিকার, কয়েক সপ্তাহ পর শিক্ষার্থীর মৃত্যু ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই সহজ ঋণের সুযোগ, জেনে নিন নিয়ম ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম বাড়ল, নতুন দর কার্যকর! সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার জকিগঞ্জে আবারও বেন্ডিলেটর ভেঙে ডাকাতি, ৮ ভরি স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুট

ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই সহজ ঋণের সুযোগ, জেনে নিন নিয়ম

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৮৬ সময় দেখুন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় গৃহস্থালি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের রাজস্ব নীতি-১ শাখা থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, এ ঋণের জন্য সরকারের বার্ষিক সুদহার হবে মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ সর্বোচ্চ কার্যকর বার্ষিক সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ।

যেসব কাজে ঋণ পাওয়া যাবে

এ কর্মসূচির আওতায় গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে—

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সম্প্রসারণ
নেট মিটারিং সংযোগ
সোলার হোম সিস্টেম
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা
সৌরচালিত সেচপাম্প
ইনভার্টার
মিটার
ব্যাটারি ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা

আরও পড়ুনঃ  সংবর্ধনার নামে হাফিজ ওসামাকে অপমান, ক্ষুব্ধ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ে

১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেবে যেসব প্রতিষ্ঠান

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।

কোথা থেকে আসবে অর্থ

পরিপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই) খাতের জন্য রাখা ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করে ১ হাজার কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে সরকারের পরিচালন ঋণ থেকে।

সরকার ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর চাহিদার ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ঋণের মেয়াদ ১০ বছর

এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। এর মধ্যে প্রথম ১ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। অর্থাৎ এই সময়ে ঋণ পরিশোধ স্থগিত থাকবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে নির্ধারিত কিস্তিতে আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি অথবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারবে। তবে কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেই ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।

যেসব কাজে ঋণের টাকা ব্যবহার করা যাবে না

পরিপত্র অনুযায়ী, এই তহবিলের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ, এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ঋণ বিতরণ নীতি ও গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে গ্রাহক পরিচিতি বা কেওয়াইসি এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবিলা (এএমএল/সিএফটি)–সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইভটিজিংয়ের শিকার, কয়েক সপ্তাহ পর শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ডিজিটাল ব্যবস্থায় নজরদারি

কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে পৃথক ব্যাংক হিসাব, পর্ষদ অনুমোদিত পরিচালন পরিকল্পনা এবং ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এমআইএস) চালু করতে হবে।

প্রতিটি ঋণের জন্য আলাদা আইডেন্টিফায়ার নম্বর এবং ডিজিটাল আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া কর্মসূচির বার্ষিক স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে জমা দিতে হবে। প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন এবং অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

পরিপত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসূচির নির্দেশিকা ও ঋণনীতি অর্থ বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

Note: News24.com

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে কানাইঘাটের চতুল বাজারে সংঘর্ষ, উত্তেজনা!

ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই সহজ ঋণের সুযোগ, জেনে নিন নিয়ম

আপডেটের সময়: ১০:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় গৃহস্থালি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের রাজস্ব নীতি-১ শাখা থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, এ ঋণের জন্য সরকারের বার্ষিক সুদহার হবে মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ সর্বোচ্চ কার্যকর বার্ষিক সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ।

যেসব কাজে ঋণ পাওয়া যাবে

এ কর্মসূচির আওতায় গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে—

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সম্প্রসারণ
নেট মিটারিং সংযোগ
সোলার হোম সিস্টেম
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা
সৌরচালিত সেচপাম্প
ইনভার্টার
মিটার
ব্যাটারি ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা

আরও পড়ুনঃ  ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম বাড়ল, নতুন দর কার্যকর!

১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেবে যেসব প্রতিষ্ঠান

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।

কোথা থেকে আসবে অর্থ

পরিপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই) খাতের জন্য রাখা ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করে ১ হাজার কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে সরকারের পরিচালন ঋণ থেকে।

সরকার ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর চাহিদার ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  সহায়তাকারীদের নাম নেই, নাম কামাতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সংবাদমাধ্যমের ব্র্যান্ডিং!

ঋণের মেয়াদ ১০ বছর

এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। এর মধ্যে প্রথম ১ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। অর্থাৎ এই সময়ে ঋণ পরিশোধ স্থগিত থাকবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে নির্ধারিত কিস্তিতে আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি অথবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারবে। তবে কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেই ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।

যেসব কাজে ঋণের টাকা ব্যবহার করা যাবে না

পরিপত্র অনুযায়ী, এই তহবিলের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ, এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ঋণ বিতরণ নীতি ও গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে গ্রাহক পরিচিতি বা কেওয়াইসি এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবিলা (এএমএল/সিএফটি)–সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ডিজিটাল ব্যবস্থায় নজরদারি

কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে পৃথক ব্যাংক হিসাব, পর্ষদ অনুমোদিত পরিচালন পরিকল্পনা এবং ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এমআইএস) চালু করতে হবে।

প্রতিটি ঋণের জন্য আলাদা আইডেন্টিফায়ার নম্বর এবং ডিজিটাল আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া কর্মসূচির বার্ষিক স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে জমা দিতে হবে। প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন এবং অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

পরিপত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসূচির নির্দেশিকা ও ঋণনীতি অর্থ বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

Note: News24.com