
৩ বছরেই সবার মন জয়, কানাইঘাট থেকে বিদায় পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ আলী!
সিলেটের কানাইঘাটে প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে বদলি হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) যোগ দিতে যাচ্ছেন থানা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সদস্য মোহাম্মদ আলী। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড এবং অমায়িক ও আন্তরিক ব্যবহারের কারণে অল্প সময়েই স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত ও প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে কানাইঘাট থানায় যোগ দেন মোহাম্মদ আলী। এর আগে ২০১৭ সালের ৭ মে কক্সবাজারে পুলিশের চাকরিতে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর থানায় যোগ দেন।
কানাইঘাটে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক বিভাগের সদস্য হিসেবে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাঁর বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ ও সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অমায়িক, বিনয়ী ও সুন্দর ব্যবহারের কারণে তিনি অনেকের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন মোহাম্মদ আলী। বিভিন্ন সামাজিক বিষয়, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট করতেন তিনি। এ কারণে কানাইঘাটসহ সিলেটের অনেক নেটিজেনদের কাছেও তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
প্রায় তিন বছর কানাইঘাটে দায়িত্ব পালনের পর এবার বদলি হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) যোগ দিতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আলী। তাঁর বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর নতুন কর্মস্থলের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।
বিদায়ী মুহূর্তে কানাইঘাটবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মোহাম্মদ আলী কানাইঘাটে কাটানো সময়, স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও স্মৃতির কথা আবেগঘনভাবে তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ আলীর দেশের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার কুশবাস ইউনিয়নের আরিপপুর গ্রামে। তাঁর বাবা আবুল বাশার এবং মা শাহানারা বেগম। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ।
কানাইঘাটে দায়িত্ব পালন শেষে নতুন কর্মস্থল ডিএমপিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনে যুক্ত হচ্ছে নতুন অধ্যায়। তবে প্রায় তিন বছরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, মানবিক কর্মকাণ্ড ও নানা স্মৃতি কানাইঘাটবাসীর মনে তাঁকে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে।
সাদমান সাকিব, কানাইঘাট 



















