
সিলেটের জকিগঞ্জে ছেলের হামলায় পিয়ারা বেগম (৬৩) নামে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুসহ পরিবারের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে সুমন আহমদকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামে। নিহত পিয়ারা বেগম ওই গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের স্ত্রী।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া ও টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুমন আহমদের বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় পিয়ারা বেগমসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন।
শিশুসহ আহত চারজন
এ ঘটনায় পিয়ারা বেগমের পাশাপাশি কুটিনা বেগম, শাহীন আহমদ (৩৮), শাহানা বেগম (৩২) এবং আড়াই বছরের শিশু ইসরাত জাহান আহত হন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পারিবারিক বিরোধ কীভাবে এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে গড়াল, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
অভিযুক্ত ছেলে গ্রেপ্তার
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে সুমন আহমদকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে।
নিহতের ছেলে শাহীন আহমদ বাদী হয়ে সুমন আহমদ ও অপর ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করে মামলা করেছেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পিয়ারা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হত্যা-সংক্রান্ত ধারা সংযোজনের কথা জানানো হয়েছে।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
একটি পারিবারিক বিরোধের জেরে মায়ের মৃত্যু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, আহতদের চিকিৎসা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদকের নাম 












