
একসময় জকিগঞ্জের শিক্ষার্থীদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ছিল ভর্তি পরীক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যস্ততা বেড়ে যেত। পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে থাকত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের নাম।
একসময় বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলেও জেলার সেরা পাঁচের মধ্যে অবস্থান করত জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি জকিগঞ্জের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে পরিস্থিতি। স্থানীয়দের অনেকের অভিযোগ, আগের সেই ভর্তি-আগ্রহ এখন আর নেই। যে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে একসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা যেত, বর্তমানে সেখানে ভর্তির বিষয়ে আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে।
শুধু ভর্তি নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও হতাশা প্রকাশ করছেন সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। একসময় ফল প্রকাশের পর জেলার ফলাফলের তালিকায় সবার আগে যে বিদ্যালয়ের নাম খোঁজা হতো, এখন সেই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
তবে একটি প্রতিষ্ঠানের গৌরব একদিনে তৈরি হয় না, আবার একদিনে হারিয়েও যায় না। তাই প্রশ্ন উঠছে—কোথায় তৈরি হয়েছে ঘাটতি? কেন ধরে রাখা যাচ্ছে না সেই পুরোনো সুনাম ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ?
শিক্ষার মান, শিক্ষক সংকট, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত সমস্যা কিংবা পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা—কোন বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী, তা নিয়ে প্রয়োজন কার্যকর পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ।
জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জকিগঞ্জের বহু মানুষের শৈশব, স্মৃতি ও গৌরবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহ্যের নাম।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি আবারও ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব। ফিরে আসবে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সেই পুরোনো আস্থা ও আগ্রহ।
প্রতিবেদকের নাম 










