Dhaka ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কানাইঘাটের প্রবাসীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে এমপি মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান!! কানাইঘাটে কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত গ্রেফতার!! বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও সরকারি অফিসে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয়ের অভিযোগ জকিগঞ্জে দুই সপ্তাহে তিনটি ডাকাতি; থানা প্রশাসনকে অবগত করা হলেও নেই দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা। সিলেটে হযরত শাহজালাল মাজারে সামুন অধ্যায় সমাপ্ত কানাইঘাটে প্রসূতি ও মৃত নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা: মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি!! ৬ টা গোল দিয়ে ফ্রান্সের সাথে জিতলো ইংল্যান্ড ডিসি সারওয়ার আলম কানাইঘাটে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বিতর্ক: প্রসূতি ও মৃত নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ সিলেটের জকিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৪২ পিস ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

চীনে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:৩৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৪৮ সময় দেখুন

৩০ বছর ধরে ২.২ বিলিয়ন ইউয়ান (৩২৫ মিলিয়ন ডলার) ঘুষ নেওয়ার পূর্ব চীনের একটি আদালত সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

ইয়াং ইউলিন নামক ওই নগর কর্মকর্তা ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেবল ঘুষ নেওয়াই নয়; তহবিল তছরুপ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের মতো অপরাধেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি চীনে আর কারও কাছে মেলেনি।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৬৯ বছর বয়সি ইয়াং নিজের পদের ফায়দা তুলে মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ ও দামি উপহারের বিনিময়ে অনেককে ইঞ্জিনিয়ারিং কন্ট্র্যাক্ট, জমি হস্তান্তর ও অর্থায়নের সুযোগ পাইয়ে দিতেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ীরা পাবেন চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেশজুড়ে চলা কঠোর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ধরা পড়েন ইয়াং। জিনপিংয়ের এই শুদ্ধি অভিযান ইতিমধ্যেই চীনের সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে ব্যাংকিংসহ অন্যান্য খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাড়িয়ে দিয়েছে।

কর্মজীবনের সিংহভাগই নানজিং শহরের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করেছেন ইয়াং। সোমবার চাংঝৌ শহরের আদালত বলে, ইয়াংয়ের অপরাধ ‘ভয়াবহ গুরুতর’। তার এই দুর্নীতি ‘রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে’।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন শি জিনপিং। সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সরিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবেই এই অভিযানগুলোকে ব্যবহার করছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ীরা পাবেন চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

চীনে হোয়াইট কলার অপরাধীদের সাধারণত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় না। তবে দুর্নীতির অঙ্ক যদি ১ বিলিয়ন ইউয়ানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়, তখন অনেক সময় এই সাজা দেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসেবে সাবেক অর্থ-কর্মকর্তা লাই জিয়াওমিনের কথা বলা যায়। ১০ বছর ধরে ১.৮ বিলিয়ন ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার অপরাধে ২০২১ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

একই পরিণতি হয় ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংয়ের। তহবিল তছরুপ ও ঘুষ মিলিয়ে মোট ৩ বিলিয়ন ইউয়ান গ্রহণের দায়ে ২০২৪ সালে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অবশ্য অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে আদালত সরাসরি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে কারাদণ্ড বা স্থগিত মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে। একটা নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ওই সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়।

আরও পড়ুনঃ  প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ীরা পাবেন চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি অন্য অপরাধীদের ধরিয়ে দিয়ে তদন্তে সাহায্য করলে আদালত তার সাজা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

ইয়াং নিজেও প্রশাসনকে একইভাবে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু চাংঝৌ আদালত বলেছে, ইয়াংয়ের অপরাধ এতটাই ‘গুরুতর’ যে তদন্তে তার এই সহযোগিতা ‘সাজা কমানোর জন্য কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়’।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়াং নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। চূড়ান্ত বিবৃতিতে তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ‘গভীর অনুশোচনা’ প্রকাশ করেছেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কানাইঘাটের প্রবাসীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে এমপি মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান!!

চীনে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

আপডেটের সময়: ০৭:৩৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

৩০ বছর ধরে ২.২ বিলিয়ন ইউয়ান (৩২৫ মিলিয়ন ডলার) ঘুষ নেওয়ার পূর্ব চীনের একটি আদালত সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

ইয়াং ইউলিন নামক ওই নগর কর্মকর্তা ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেবল ঘুষ নেওয়াই নয়; তহবিল তছরুপ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের মতো অপরাধেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি চীনে আর কারও কাছে মেলেনি।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৬৯ বছর বয়সি ইয়াং নিজের পদের ফায়দা তুলে মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ ও দামি উপহারের বিনিময়ে অনেককে ইঞ্জিনিয়ারিং কন্ট্র্যাক্ট, জমি হস্তান্তর ও অর্থায়নের সুযোগ পাইয়ে দিতেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ীরা পাবেন চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেশজুড়ে চলা কঠোর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ধরা পড়েন ইয়াং। জিনপিংয়ের এই শুদ্ধি অভিযান ইতিমধ্যেই চীনের সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে ব্যাংকিংসহ অন্যান্য খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাড়িয়ে দিয়েছে।

কর্মজীবনের সিংহভাগই নানজিং শহরের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করেছেন ইয়াং। সোমবার চাংঝৌ শহরের আদালত বলে, ইয়াংয়ের অপরাধ ‘ভয়াবহ গুরুতর’। তার এই দুর্নীতি ‘রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে’।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন শি জিনপিং। সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সরিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবেই এই অভিযানগুলোকে ব্যবহার করছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ীরা পাবেন চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

চীনে হোয়াইট কলার অপরাধীদের সাধারণত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় না। তবে দুর্নীতির অঙ্ক যদি ১ বিলিয়ন ইউয়ানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়, তখন অনেক সময় এই সাজা দেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসেবে সাবেক অর্থ-কর্মকর্তা লাই জিয়াওমিনের কথা বলা যায়। ১০ বছর ধরে ১.৮ বিলিয়ন ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার অপরাধে ২০২১ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

একই পরিণতি হয় ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংয়ের। তহবিল তছরুপ ও ঘুষ মিলিয়ে মোট ৩ বিলিয়ন ইউয়ান গ্রহণের দায়ে ২০২৪ সালে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অবশ্য অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে আদালত সরাসরি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে কারাদণ্ড বা স্থগিত মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে। একটা নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ওই সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়।

আরও পড়ুনঃ  প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ীরা পাবেন চ্যাম্পিয়নশিপ রিং

এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি অন্য অপরাধীদের ধরিয়ে দিয়ে তদন্তে সাহায্য করলে আদালত তার সাজা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।

ইয়াং নিজেও প্রশাসনকে একইভাবে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু চাংঝৌ আদালত বলেছে, ইয়াংয়ের অপরাধ এতটাই ‘গুরুতর’ যে তদন্তে তার এই সহযোগিতা ‘সাজা কমানোর জন্য কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়’।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়াং নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। চূড়ান্ত বিবৃতিতে তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ‘গভীর অনুশোচনা’ প্রকাশ করেছেন।