সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় পরিচালিত একাধিক সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ, নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ বিতরণ এবং গ্রাহকদের অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সমবায় সমিতি নিরাপদ বিনিয়োগ ও আকর্ষণীয় মুনাফার আশ্বাস দিয়ে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য এবং নিম্ন আয়ের মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে অনেক গ্রাহক তাদের আমানতের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসব সমিতি দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহক সংগ্রহ করে আসছে। কিন্তু টাকা উত্তোলনের সময় গ্রাহকদের নানা অজুহাত, কালক্ষেপণ এবং প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত জকিগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক কে. এম. মামুন। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থ সংগ্রহ করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে অধিক মুনাফার আশায় তারা বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে অর্থ জমা রাখেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মূলধন ও মুনাফা ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বারবার যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান মিলছে না।
এছাড়া ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ আদায়, অস্পষ্ট শর্ত আরোপ এবং কাগজপত্রে অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। কিছু গ্রাহক দাবি করেছেন, তাদের কাছ থেকে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অনেক সমবায় সমিতির কার্যক্রমে কার্যকর তদারকি ও আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। নিয়মিত অডিট ও পর্যবেক্ষণ না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এদিকে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, অতিরিক্ত সুদ আদায় এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও এলাকাবাসী অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানত দ্রুত ফেরত নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, সমবায়ের নামে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠান যদি জনগণের অর্থ নিয়ে অনিয়ম করে থাকে, তবে তা শুধু আর্থিক অপরাধ নয়; বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের আঘাত। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
ওয়াসিম আকরাম সাহান 
















