Dhaka ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যুক্তরাজ্যে মোট বাংলাদেশিদের ৯০-৯৫% সিলেটি সিলেটি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫-৬ লাখ প্রিয় শায়খে লক্ষীপুরী হাফিজাহুল্লাহ এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জকিগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাসুক আহমদ সিলেটের জকিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ৪০০০ পিস ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ৪০০ ছাড়াল কাঁচামরিচ, অনিয়ন্ত্রিত সবজি ও ডিমের দাম ‘তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’ বলা সেই শিক্ষক বহিষ্কার ধর্ষণের অভিযোগে বাবার মিথ্যা স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে ছেলের অবস্থান। ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা দিয়েছেন নেইমার জুনিয়র কানাইঘাট পেল নতুন ইউএনও, যোগ দিয়েছেন সুমাইয়া ঢাকা মহানগরে প্রতি ঘন্টায় “১টি তালাক” !!

বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’, জন্ম ১৯৮১ সালে বলে ভাইরাল সেই জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত!

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:৫১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ১০৩ সময় দেখুন

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালে, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর। এছাড়া তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন।

গত রোববার সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’

আরও পড়ুনঃ  সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জকিগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাসুক আহমদ

তবে হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে শহীদের সন্তান হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে হাস্যরস ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো বেঁচে আছেন এবং তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রিয় শায়খে লক্ষীপুরী হাফিজাহুল্লাহ এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম তার ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও জানান, সংসদের রেকর্ড থেকে এই ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জকিগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাসুক আহমদ

এদিকে, সংসদ সদস্যের সহকর্মী ও সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সংবাদকর্মীদের সামনে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবেন।

উল্লেখ্য, আব্দুল মুনতাকিম ছোটবেলায় হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় দাঁড়িয়ে নিজের পরিবার সম্পর্কে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় তার দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

Tag :

যুক্তরাজ্যে মোট বাংলাদেশিদের ৯০-৯৫% সিলেটি সিলেটি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫-৬ লাখ

বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’, জন্ম ১৯৮১ সালে বলে ভাইরাল সেই জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত!

আপডেটের সময়: ১২:৫১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালে, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর। এছাড়া তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন।

গত রোববার সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’

আরও পড়ুনঃ  প্রিয় শায়খে লক্ষীপুরী হাফিজাহুল্লাহ এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে শহীদের সন্তান হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে হাস্যরস ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো বেঁচে আছেন এবং তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন।

আরও পড়ুনঃ  সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জকিগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাসুক আহমদ

এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম তার ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও জানান, সংসদের রেকর্ড থেকে এই ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রিয় শায়খে লক্ষীপুরী হাফিজাহুল্লাহ এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, সংসদ সদস্যের সহকর্মী ও সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সংবাদকর্মীদের সামনে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবেন।

উল্লেখ্য, আব্দুল মুনতাকিম ছোটবেলায় হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় দাঁড়িয়ে নিজের পরিবার সম্পর্কে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় তার দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।