সিলেটের জকিগঞ্জে একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। কিন্তু এসব ঘটনার পর অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে জকিগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল বাছিতকে ঘিরে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামের বক্তব্যে বাছিতের নাম, তদন্তের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে একটি চুরির চেষ্টা-সংক্রান্ত মামলায় প্রধান আসামি সাইদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে আব্দুল বাছিতের নাম উল্লেখ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাছিত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে চুরি ও ডাকাতির কাজে উৎসাহিত করতেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মোটর, লোহা, টিউবওয়েল, গাড়ির ব্যাটারি চুরি এবং বসতবাড়িতে প্রবেশ করে চুরির মতো কর্মকাণ্ডে বাছিত জড়িত। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
বসতঘরে চোরাই মালামাল লুকিয়ে রাখার অভিযোগ।
পারিবারিক সূত্রের বরাতে জনতা টিভি জানতে পেরেছে, আব্দুল বাছিতের বসতঘরে চুরি করা বিপুল পরিমাণ মালামাল লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়া হলেও অভিযোগটির ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে আব্দুল বাছিতের এক ভাতিজাও তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। ওই স্বজনের দাবি, আব্দুল বাছিত ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগমকে ঘিরে এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কারণে পরিবারের সদস্যরাও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ চুরির জরিমানা প্রায় এক লাখ টাকা, পরিশোধ নিয়ে প্রশ্ন?
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যবহারের অভিযোগে জকিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আব্দুল বাছিতকে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী হিসেবে পরিচিত আব্দুল বাছিত মাত্র এক মাসের মধ্যে এত বড় অঙ্কের জরিমানার টাকা কীভাবে পরিশোধ করলেন?
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য ও নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জকিগঞ্জের ধারাবাহিক ডাকাতি, পুলিশের কাছে জনতার প্রশ্ন?
সাম্প্রতিক সময়ে জকিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চুরি ও ডাকাতি-সংক্রান্ত মামলায় উঠে আসা তথ্য, অভিযোগ এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আব্দুল বাছিতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশ কী তথ্য পেয়েছে? তাঁর বসতঘরে চোরাই মালামাল থাকার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে কি না? সাইদুল ইসলামের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো অনুসন্ধান চালানো হয়েছে কি? বিদ্যুৎ চুরির জরিমানার তথ্য কতটুকু সঠিক?
এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক উত্তর এখন জরুরি।
জনতা টিভি জনতার কথা পক্ষ থেকে জকিগঞ্জ থানা-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে, আব্দুল বাছিতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জকিগঞ্জের সাম্প্রতিক চুরি ও ডাকাতির ঘটনাগুলোর তদন্তের অগ্রগতি এবং অপরাধীদের শনাক্তে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে।
প্রশ্ন একটাই—জকিগঞ্জে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষ যখন আতঙ্কিত, তখন এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ কবে দৃশ্যমান হবে?
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটন করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। জকিগঞ্জবাসী আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান।