সিলেটের জকিগঞ্জে আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুই ব্যক্তিকে বেঁধে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতদল। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের শাহবাগ মহিদপুর গ্রামে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ৬ জনের একটি ডাকাতদল বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়িতে থাকা মাওলানা কমর উদ্দিন ও সিরাজুল ইসলামকে বেঁধে ফেলে ডাকাতেরা। পরে বাড়ি থেকে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা ও চারটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতেরা সিলেটি ভাষায় কথা বলছিল। বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা। এ ছাড়া ডাকাতদলের একজন দাবি করে, এর আগেও ওই বাড়িতে একাধিকবার ডাকাতির ঘটনায় সে জড়িত ছিল। যাওয়ার সময় একটি মুঠোফোন বাড়ির আশপাশে খুঁজে পাওয়া যাবে বলেও জানিয়ে যায় ডাকাতেরা।
ঘটনার খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি তখন ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন। ডাকাতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে জকিগঞ্জ পৌর বিএনপির সহসভাপতি মুনিম আহমদ বলেন, এর আগেও ওই বাড়িতে একাধিকবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, মাওলানা কমর উদ্দিন তাঁর বড় বোনের স্বামী। আগামী ২২ অক্টোবর কমর উদ্দিনের পরিবারের সপরিবারে ওমরাহ পালনে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। এর মধ্যেই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
জকিগঞ্জে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—কবে বন্ধ হবে এসব অপরাধ, আর কবে নিরাপদ হবে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি?