জকিগঞ্জ–শেওলা সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশ্ন উঠেছে, জনদুর্ভোগ লাঘবে শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ তদারকি করছেন কারা?
দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরুর পর আশায় বুক বেঁধেছিলেন হাজারো মানুষ। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম দফার কাজেও যেখানে এক নম্বর ইট ব্যবহারের কথা, সেখানে দুই নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের এজিং নির্মাণে সিমেন্টের পরিমাণ কম এবং নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। দ্বিতীয় দফার সংস্কারকাজেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কিংবা কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজে মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? আর অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে তার অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে না কেন?
এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তাই বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
**জনগণের দাবি—** জকিগঞ্জ–শেওলা সড়কের সংস্কারকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন, ব্যবহৃত ইট, বালু ও সিমেন্টের গুণগত মান পরীক্ষা এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রশ্ন একটাই—জকিগঞ্জ–শেওলা সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কবে? নাকি জনদুর্ভোগের এই চিত্র দেখেও নীরব থাকবেন সংশ্লিষ্টরা?