সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই কোটেশন পদ্ধতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার কাজ বণ্টন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও অসাধু চক্র বিশেষ বরাদ্দের কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান না করে কাগজে-কলমে কোটেশন দেখিয়ে পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ এলেও বাস্তবে অনেক কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জুন মাস শেষে বরাদ্দের অর্থ ল্যাপস হওয়ার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ‘জুন ক্লোজিং’-এর অজুহাতে তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ ও কাজ অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। এ সুযোগে নতুন ও পুরোনো প্রকল্পের নামে বরাদ্দ ছাড়ের তোড়জোড় চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি ক্রয়বিধিতে সীমিত পরিসরের কিছু কাজের ক্ষেত্রে কোটেশন পদ্ধতির সুযোগ থাকলেও বড় অঙ্কের বিশেষ বরাদ্দকে খণ্ড খণ্ড করে কোটেশনের আওতায় এনে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এড়ানো হচ্ছে। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা প্রতিটি বিশেষ বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য ও ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদকের নাম 
















